![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ প্রসঙ্গে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ককে ‘প্রকৃত প্রতিভা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প রাসভেত এবং মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে কক্ষপথে কার্যক্রমের সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন পুতিন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মস্কোয় রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে রাশিয়ার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প রাসভেত নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে মাস্কের প্রসঙ্গ আসে।
পুতিন বলেন, ‘তিনি একজন প্রতিভা, প্রকৃত প্রতিভা। আমরা আমাদের মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি, যার মধ্যে মাস্কও রয়েছেন।’
রাসভেত প্রকল্পের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মানুষের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে রাশিয়া। অন্যদিকে, মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালনা করে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্পেসএক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো জবাব দেয়নি।
পুতিনের ভাষ্য, রাসভেত ও স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলো যেন কক্ষপথে একে অপরের কার্যক্রমে ‘বাধা সৃষ্টি না করে’, তা নিশ্চিত করতে মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা রাশিয়ার জন্য প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এবং আমাদের মার্কিন অংশীদাররা বিষয়টিকে পারস্পরিকভাবে গুরুত্ব দিই। রাজনৈতিক নানা বিষয় থাকা সত্ত্বেও আমরা এ নিয়ে জোরালোভাবে কাজ করছি।’
স্যাটেলাইটের সংখ্যা বিবেচনায় রাসভেতের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে স্টারলিংক। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে স্টারলিংক। অন্যদিকে, অনলাইন স্যাটেলাইট ট্র্যাকারগুলোর তথ্য বলছে, বর্তমানে রাসভেতের মাত্র কয়েক ডজন স্যাটেলাইট কক্ষপথে রয়েছে।
বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস রাসভেতকে ‘রাশিয়ার স্টারলিংকের বিকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে দূতাবাস জানিয়েছে, এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে এটি রাশিয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ।
দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইলন মাস্কসহ মহাকাশবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।’
রাসভেত ও স্টারলিংক নিয়ে পুতিনের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কেও ঘনিষ্ঠতার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালাতে ইউক্রেন স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবার ওপর নির্ভর করেছে। তবে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী হঠাৎ স্টারলিংকের সংযোগ সমস্যায় পড়ে। স্পেসএক্স ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটি করেছে বলে স্বীকার করেছেন মাস্ক।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে তিনি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে রাশিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই সেগুলো শিথিল করেন ট্রাম্প।
এর কিছুদিন পর রাশিয়ার হেফাজত থেকে মুক্তি পান এক মার্কিন নাগরিক। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ পুতিনকে ‘মানবিক ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পাঠকের মন্তব্য