
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের বিপরীতে বড় কোম্পানিগুলো কতটা আয় ও মুনাফা করতে পারছে, তা জানতে চলতি সপ্তাহের আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তও বিশ্ববাজারের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিশ্বের অধিকাংশ শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এশিয়ার কয়েকটি বাজারে দরপতন দেখা গেছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। খবর এপি।
চলতি সপ্তাহে এআই খাতের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানির আর্থিক ফল প্রকাশিত হবে। তালিকায় রয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন। এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পর কোম্পানিগুলো কতটা আয় এবং মুনাফা অর্জন করতে পারছে, তা এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
প্রযুক্তি খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বাজারে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলে তাদের আয়, মুনাফা এবং বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্ত ফলাফল বাজার বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। এসব সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হবে, নাকি পরিবর্তন আনা হবে, তা বাজারের লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে সূচক বেড়েছে। লেনদেনের শুরুতে জার্মানির ডিএএক্স সূচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৩৬৩ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে পৌঁছায়। ফ্রান্সের প্যারিসভিত্তিক সিএসি ৪০ সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৬২ পয়েন্টে।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার ৭৪২ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও লেনদেন শুরুর আগে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচারস শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজের ফিউচারস বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও এশিয়ার কয়েকটি শেয়ারবাজারে দিনের শুরুতে সূচক কমেছে। পরে কিছু বাজারে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৬২ হাজার ১৮৯ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে নেমে আসে। দেশটির চিপ উৎপাদনকারী এবং অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ায় সূচকটি নিম্নমুখী হয়।
কম্পিউটার চিপ পরীক্ষার সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারদর কমেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। চিপ ও ফ্ল্যাট প্যানেল তৈরির সরঞ্জাম উৎপাদনকারী টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারদরও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
এদিকে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওজে) চলতি সপ্তাহে নীতিসুদ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। সুদের হার অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি এতে পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারেও দরপতন দেখা গেছে। দেশটির কসপি সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪৬৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে নেমে আসে। মেমোরি চিপ নির্মাতা স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।
তবে এশিয়ার অন্য কয়েকটি বাজারে সূচক বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২৩ হাজার ২১১ দশমিক ৮১ পয়েন্টে পৌঁছায়। চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক দিনের শুরুর দরপতন কাটিয়ে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৫২ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচকও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮০৯ দশমিক ৯০ পয়েন্টে ওঠে।
শেয়ারবাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারেও পরিবর্তন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলার ৮৬ সেন্টে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক দাম কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০১ ডলার ৮ সেন্টে।
চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তন—এই বিষয়গুলো বিশ্ববাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য