![]()
ইবি রিপোর্ট
সাতক্ষীরার বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলার ডাল ও আস্ত ছোলার দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিকে এ মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন ক্রেতারা।
জেলার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মোকাম সুলতানপুর বড় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলার ডাল ১২৫ টাকা এবং আস্ত ছোলা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ছোলার ডাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা এবং আস্ত ছোলা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
বাজারে হঠাৎ দাম বাড়ার বিষয়ে মেসার্স সরদার স্টোরের পরিচালক আব্দুল হাকিম বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই ছোলার ডাল ও আস্ত ছোলার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
আমদানি কমায় সরবরাহে ঘাটতি
ভোমরা স্থলবন্দরের কৃষিপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, সম্প্রতি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ছোলার দাম বেড়েছে। এতে লোকসান এড়াতে ব্যবসায়ীরা পণ্যটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বলেন, ডালজাতীয় ফসলের মধ্যে ছোলার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটির দাম কিছুটা বেড়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান লোকসান এড়াতে আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ কারণে ছোলার ডালের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসতে পারে।
স্থানীয় উৎপাদন প্রায় নেই
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, জেলায় ছোলার উৎপাদন এখন প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ একসময় জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকেরা ছোলা উৎপাদন করতেন। সেই উৎপাদন দিয়ে স্থানীয় চাহিদার বড় একটি অংশ মেটানো সম্ভব ছিল।
তবে বর্তমানে ছোলার চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
আমদানিনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে সাতক্ষীরায় ছোলা ও ছোলার ডালের দাম বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ক্রেতাদের ওপর থাকতে পারে।