![]()
ইবি রিপোর্ট
বাড়িতে পড়ে থাকা পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি আর অব্যবহৃত ফেলে রাখতে হবে না। নতুন ওয়েবক্যাম কেনার খরচ বাঁচিয়ে সেই ফোনকেই ব্যবহার করা যেতে পারে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের ক্যামেরা হিসেবে। অনেক ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ক্যামেরা সাধারণ ল্যাপটপের বিল্ট-ইন ওয়েবক্যামের চেয়ে ভালো মানের ছবি দিতে পারে। ফলে ভিডিও কল, অনলাইন মিটিংসহ বিভিন্ন কাজে পুরোনো ফোনটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
মাইক্রোসফটের সুবিধাটি ব্যবহার করতে কম্পিউটারে উইন্ডোজ ১১ এবং ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ১০ বা তার পরবর্তী সংস্করণ থাকতে হবে। পাশাপাশি ফোনে প্রয়োজন হবে লিংক-টু-উইন্ডোজ (Link to Windows) অ্যাপ। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে ফোনটিকে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
মাইক্রোসফটের সহায়তা নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমে উইন্ডোজ ১১ চালিত পিসির সেটিংস খুলতে হবে। এরপর ‘ব্লুটুথ অ্যান্ড ডিভাইসেস’ বিভাগ থেকে ‘মোবাইল ডিভাইসেস’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে ‘অ্যাড ডিভাইস’ নির্বাচন করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
সংযোগের জন্য পিসি ও ফোন একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে রাখতে হবে। এরপর কম্পিউটারের পর্দায় একটি কিউআর কোড দেখা যাবে। ফোনে লিংক-টু-উইন্ডোজ অ্যাপ খুলে কোডটি স্ক্যান করতে হবে। পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে হবে, যাতে ফোন ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন সম্পন্ন হয়।
ফোনটি একবার পিসির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলে আবার ‘মোবাইল ডিভাইসেস’ সেটিংসে গিয়ে সংযুক্ত ফোনটি নির্বাচন করতে হবে। সেখানে ‘ইউজ অ্যাজ কানেক্টেড ক্যামেরা’ (Use as connected camera) অপশনটি সক্রিয় করতে হবে। এভাবে ফোনের ক্যামেরাকে উইন্ডোজের সঙ্গে সংযুক্ত ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
এরপর জুম, মাইক্রোসফট টিমস কিংবা অন্য কোনো ভিডিও কলের অ্যাপ খুলে ক্যামেরা সেটিংসে যেতে হবে। সেখানে সংযুক্ত অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিকে ক্যামেরা হিসেবে নির্বাচন করলেই সেটি দিয়ে ভিডিও কল করা সম্ভব হবে। প্রয়োজনে উইন্ডোজের ক্যামেরা সেটিংস থেকেও সংযুক্ত ক্যামেরার তালিকা দেখা এবং ভিডিওর প্রিভিউ পরীক্ষা করা যাবে।
ফোনকে ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহারের সময় সেটি এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে ক্যামেরার ফ্রেমে মুখ ঠিকভাবে দেখা যায়। সাধারণত ল্যান্ডস্কেপ বা আড়াআড়ি অবস্থানে ফোন রাখলে ভিডিও কলের জন্য বেশি ব্যবহারযোগ্য ফ্রেম পাওয়া যায়। প্রয়োজনে ফোন রাখার জন্য উপযুক্ত স্ট্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় ভিডিও কল বা অনলাইন মিটিং করলে ফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে ফোনটি চার্জে রেখে ব্যবহার করা ভালো। একই সঙ্গে ফোনের ক্যামেরার অনুমতিও যাচাই করতে হবে। লিংক-টু-উইন্ডোজ অ্যাপকে ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া না থাকলে কম্পিউটারে ভিডিও দেখা নাও যেতে পারে।
ফোন সংযুক্ত হওয়ার পরও ক্যামেরার ভিডিও ফিড দেখা না গেলে প্রথমে অ্যাপটির ক্যামেরা পারমিশন পরীক্ষা করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে ফোন ও পিসির সংযোগ পুনরায় স্থাপন করে দেখতে হবে।
সব মিলিয়ে, পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার করলে আলাদা ডিভাইস কেনার খরচ বাঁচানো সম্ভব। তবে সুবিধাটি কাজে লাগানোর আগে ফোন ও কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ, প্রয়োজনীয় অ্যাপ এবং সংযোগের শর্তগুলো মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
পাঠকের মন্তব্য