![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতি সুতা আমদানিতে ব্যাংক গ্যারান্টি ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রপ্তানি পণ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিএমএ সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানায়। সংগঠনটি বলেছে, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে নিয়মিত বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকৃত রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।
বিটিএমএর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা, ব্যাংকঋণ আদায় সহজ করা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
তবে পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনগুলো এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংক গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক হলে রপ্তানিকারকদের আর্থিক চাপ বাড়বে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলোর জন্য এ শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আমদানি করা মোট সুতার প্রায় ৮০ শতাংশই ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের। এ ধরনের সুতা মূলত নিট পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। ফলে আমদানির শর্তে পরিবর্তন এ খাতের উৎপাদন ব্যয় ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ ধরনের সুতা আমদানিতে ব্যাংক গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক করা হলে রপ্তানিকারকেরা নগদ অর্থের সংকটে পড়বেন। এতে কিছু কারখানা ব্যবসা বন্ধ করতেও বাধ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক গ্যারান্টির বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। আন্তমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন জারির পর পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পোশাক খাতের দুটি সংগঠন সতর্ক করে জানায়, নতুন ব্যবস্থা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারেরও দাবি জানায়।
একদিকে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন ও বিনিয়োগ সুরক্ষার যুক্তি তুলে ধরে ব্যাংক গ্যারান্টি ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছে বিটিএমএ। অন্যদিকে পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, এ বাধ্যবাধকতা তাদের কার্যকরী মূলধনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে সুতা আমদানির নীতি নিয়ে দুই শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।