
ইবি রিপোর্ট
টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য ও বুননশিল্প নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন। ‘ঐতিহ্য, সম্প্রীতি, তাঁত: টাঙ্গাইলের তাঁতের ঐতিহ্য উদ্যাপন’ শীর্ষক এ আয়োজনে রয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প নিয়ে প্রদর্শনী ও শাড়ির মেলা।
বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ আয়োজন শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লির লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ইউনেসকোর ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’তে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প।
ইউনেসকোর এই স্বীকৃতির পর টাঙ্গাইল শাড়ির বুননশিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে এর ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়াই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
শনিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজনটির উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম।
তিনি বলেন, ‘তাঁত শিল্পের পাশাপাশি আমাদের আরও বেশ কিছু ঐতিহ্য ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এগুলোকে আমরা বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করব।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভীনা মনীর চিঠি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রধান সুজান ভাইস।
ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রধান সুজান ভাইস বলেন, অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ‘জীবন্ত ঐতিহ্য’ বলা হয়। এটি শুধু জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখার বিষয় নয়; বরং মানুষের কাজ, দক্ষতা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং জীবিকার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নও এমন একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য শুধু বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃত। এর মাধ্যমে বিশ্ব ও মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সংযোগ তৈরি হয়েছে।
সুজান ভাইস আরও বলেন, এই ঐতিহ্য বিশ্বসমাজে মানুষের সহনশীলতা ও একসঙ্গে বসবাসের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে।
টাঙ্গাইল শাড়ির বুননের ইতিহাস তাঁতিদের কাছ থেকে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব।
তিনি বলেন, তরুণ ডিজাইনার, সরকারি পৃষ্ঠপোষক এবং ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করছেন—এমন তরুণদের গবেষণাকে সমন্বয় করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
এর মাধ্যমে টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আয়োজনের অংশ হিসেবে শনিবার দুপুর ১টা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য ও বয়নশিল্প নিয়ে প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে গ্যালারির সংলগ্ন লবিতে শুরু হয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ির মেলা। প্রদর্শনী ও মেলায় টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য, বুননপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।
চার দিনব্যাপী এ আয়োজন আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী ও মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
ইউনেসকোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পর টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্পকে ঘিরে এ আয়োজন দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরার একটি উদ্যোগ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য