
ইবি রিপোর্ট
দেশের বাজারে এক সপ্তাহ পর আবারও বেড়েছে সোনার দাম। শনিবার থেকে নতুন দর কার্যকর হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার কারণে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, দাম সমন্বয়ের পর ২২ ক্যারেটের এক ভরি ভালো মানের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বেড়ে প্রতি ভরি হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।
এর আগে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। একই সময়ে ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
সোনার পাশাপাশি এবার রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ভরিতে রুপার দাম বেড়েছে ১১৬ টাকা। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা।
দেশের বাজারে এর আগে সোনার সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় সোনার দাম। ওই দিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
এরপর দেশের বাজারে সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে আসে। পরবর্তী সময়ে আবার দাম বাড়তে শুরু করে। ফলে সোনার বাজারে এখন পর্যন্ত দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববাজারে কী পরিস্থিতি
আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১৭ ডলার কমেছে। একই সঙ্গে গত ৩০ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে ১৫৩ ডলার।
সাধারণত বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সোনার চাহিদা বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবার ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম উল্টো কমেছে। গত ছয় মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে ২৪২ ডলার।
এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্পটমার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্স সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দামে পরিবর্তন দেখা যায়। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারের ওঠানামার পাশাপাশি দেশের বাজারেও সোনার দরে পরিবর্তন অব্যাহত রয়েছে।