
ইবি রিপোর্ট
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের পর নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও শেষ হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের ছাপার কাজ চলেছে। সব প্রস্তুতি ঠিকভাবে শেষ হলে শনিবারই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। সেখানে গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর্যায়ে পৌঁছেছে নতুন কাঠামো।
নতুন পে স্কেলের খসড়ার একটি অংশ গত ৩১ আগস্ট অর্থ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরে বাকি অংশও পাঠানো হয়। ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে আসে।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে স্কেল একসঙ্গে কার্যকর হবে না। এটি মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে জুলাই মাসকে কার্যকারিতার তারিখ ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতায়ও ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব ছিল।
পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়।
বর্তমানে বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের ছাপার কাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের পর নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে পারে।