
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের কাছে ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিসিসিসিআইর সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।
বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অপব্যবহার বন্ধের দাবি
বৈঠকে বিসিসিসিআই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অপব্যবহারের বিষয়টিকে। সংগঠনটির প্রতিনিধিরা বলেন, অনুমোদন ছাড়া বন্ডেড পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হলে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।
তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্যই সমস্যা তৈরি করছে না, বরং চীনের সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্ডেড পণ্যের ব্যবস্থাপনা, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণের ওপর আরও কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে বিসিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, এ ক্ষেত্রে কার্যকর মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠান এবং প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।
চীনে ২০ স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব
বিসিসিসিআইর ছয় প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হলো চীনে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য অন্তত ২০টি স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন করা। সংগঠনটির মতে, এসব প্রদর্শনী কেন্দ্রের মাধ্যমে চীনা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশি পণ্যের পরিচিতি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং দেশটির বড় বড় বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
বিসিসিসিআই মনে করে, চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার ও বাণিজ্যিক উপস্থিতি বাড়ানো গেলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখার প্রস্তাব
বৈঠকে বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাবও তুলে ধরে বিসিসিসিআই।
সংগঠনটির মতে, বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন আরও সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া চীনের সঙ্গে কারিগরি ও কারিগরি শিক্ষাভিত্তিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বিসিসিসিআই। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দুই দেশের শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময় বাড়ানোর বিষয়টি এ প্রস্তাবের অন্যতম দিক।
চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ
বৈঠকে কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন বিসিসিসিআইর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
তারা জানান, এ ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের পণ্যের প্রচার এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের আরও সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিনিধিদল মনে করে, চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
বৈঠকে বিসিসিসিআইর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জিংচাও, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ. জেড. এম. আজিজুর রহমান, মহাসচিব জামিলুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রস্তাবগুলোর মূল বিষয়
- বন্ডেড পণ্যের অপব্যবহার বন্ধে কঠোর মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ
- চীনে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য অন্তত ২০টি স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন
- চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো
- চীনের বড় বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জোরদার
- বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা
- চীনের সঙ্গে কারিগরি ও কারিগরি শিক্ষাভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ
পাঠকের মন্তব্য