
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বল্প সুদ ও সহজ শর্তের প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ২৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই স্কিমের পুরো অর্থ বিতরণ সম্পন্ন হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত ‘আ ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমে কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশের গ্রামাঞ্চলের ঋণগ্রহীতাদের কাছেও এই স্কিমের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চলতি মাসে এ স্কিমের ২৫ শতাংশ এবং ডিসেম্বর নাগাদ পুরো অর্থ বিতরণ করা হবে। তাতে আগামী বছর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করা। গভর্নরের প্রত্যাশা, এই অর্থায়নের ইতিবাচক প্রভাব আগামী বছর অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হবে।
৬০ হাজার কোটি টাকার স্টিমুলাস প্যাকেজ
সরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং অর্থনীতির সম্প্রসারণে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’ ঘোষণা করে।
প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় কৃষি ও এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং উৎপাদনশীল ব্যবসাগুলোতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে যেসব উদ্যোক্তা তুলনামূলক কম খরচে ব্যাংকঋণ পেতে সমস্যায় পড়েন, তাদের জন্য সহজ শর্তের এই অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলা কিউআরে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক
অনুষ্ঠানে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সিস্টেম নিয়েও কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনি জানান, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কয়েকটি বড় কোম্পানি সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে রাজি হয়নি।
গভর্নর বলেন, নির্ধারিত সময়ের পর একদিনও বাড়তি সময় দেওয়া হবে না বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিয়েছিলেন। নির্দেশনা না মানলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ভবিষ্যতে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও জানান গভর্নর।
তিনি বলেন, বাংলা কিউআর চালুর সময় দেশে প্রায় ৮ লাখ মার্চেন্ট ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩২ লাখে দাঁড়িয়েছে।
গভর্নরের মতে, দেশে কিউআরভিত্তিক লেনদেন ব্যাপকভাবে চালু করা সম্ভব হলে চাঁদাবাজি কমানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে আশাবাদ
অনুষ্ঠানে দেশের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মোস্তাকুর রহমান। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় এর আগে নীতি সুদহার কমানোর সুযোগ সীমিত ছিল।
গভর্নর বলেন, তিনি মূল্যস্ফীতির বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করেছেন এবং এসব তথ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি এত বেশি থাকার কারণে একটা চাপ ছিল যে নীতি সুদহার কমানো যাবে না।’
নাম উল্লেখ না করে দুটি পণ্যের কারণে মূল্যস্ফীতি কমছিল না বলেও জানান তিনি। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই অবস্থান অনুযায়ী, একদিকে কৃষি ও এসএমই খাতে স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনীতিতে ঋণের প্রবাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের অর্থ সময়মতো বিতরণ করা গেলে আগামী বছর এর প্রভাব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
পাঠকের মন্তব্য