
ই-বাংলাদেশ প্রতিবেদক
দেশের সরকারি পরিসংখ্যান তৈরির প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পরিকল্পনা করছে। মোবাইলভিত্তিক জরিপ, ভূস্থানিক তথ্য, দূর অনুধাবন, ওয়েব স্ক্র্যাপিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে একই সময়ে দক্ষ জনবলের ঘাটতি, আধুনিক গবেষণা পদ্ধতিতে সীমিত সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর দুর্বলতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে একদিকে এআইনির্ভর আধুনিক পরিসংখ্যান তৈরির পরিকল্পনা, অন্যদিকে সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের সংকট—দুই বাস্তবতার মুখোমুখি বিবিএস।
বিবিএসের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সেল শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালার প্রতিবেদনে এসব দুর্বলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে গতকাল মঙ্গলবার বিবিএসের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবিএসের পরিসংখ্যানব্যবস্থায় নমুনা নির্বাচনে পক্ষপাত, তথ্যের মান নিয়ে সমস্যা, পুরনো জরিপ উপকরণ, বিশ্লেষণী সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং তথ্য প্রকাশে বিলম্বের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, উন্নত পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বিবিএসের আরঅ্যান্ডডি সেলকে ভবিষ্যতে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই সেলকে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক আরঅ্যান্ডডি উইংয়ে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আওতায় গবেষণা, তথ্যের মান যাচাই, নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং নীতিনির্ধারণে ব্যবহারযোগ্য গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হচ্ছে দক্ষ জনবলের ঘাটতি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং ও উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে কাজ করার দক্ষ জনবল পর্যাপ্ত নয়। বিদ্যমান কর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতাও সীমিত। পাইথন ও ক্লাউডভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবস্থার ব্যবহারও পর্যাপ্ত নয়।
প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষ কর্মী আকর্ষণ ও ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
শুধু নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এ বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। বিবিএসের তথ্যের মান নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে পুরো তথ্য জীবনচক্রে স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়মিত নিরীক্ষা, সহকর্মী পর্যায়ের পর্যালোচনা এবং উন্নত পরিসংখ্যানিক সফটওয়্যার ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার না হওয়া। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে থাকা প্রশাসনিক তথ্য নীতিনির্ধারণে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যের বিভাজন, সূচিবদ্ধকরণ, পারস্পরিক ব্যবহারযোগ্যতা এবং সময়মতো প্রকাশের ক্ষেত্রেও ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই ঘাটতি পূরণে আরঅ্যান্ডডি সেলের মাধ্যমে নতুন ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মোবাইল জরিপ, এআই-সহায়িত জরিপ, ছবি শনাক্তকরণ, ওয়েব স্ক্র্যাপিং, মেশিন লার্নিং ও ভূস্থানিক বিশ্লেষণের মতো পদ্ধতি জাতীয় জরিপ ব্যবস্থায় যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারি বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য