
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি সরকার তখনই সফল হয়, যখন সে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার
রিজভী বলেন, নানা সংকটের মধ্য দিয়েও সরকার তার কর্মকাণ্ডে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল এখন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সংসদ, দলের নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যম—সব জায়গাতেই সরকারের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা থাকতে পারে।
তিনি বলেন, “সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা থাকবে। এই জবাবদিহিতা সংসদে হতে পারে, দলের নেতাকর্মীদের কাছেও হতে পারে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও হতে পারে।”
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে যা বললেন রিজভী
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, এ সংকটের জন্য সরকার বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি দায়ী নন। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর পাশাপাশি মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে ত্রুটির কারণে কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ কমে যায়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে জানান তিনি।
রিজভী বলেন, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি ইতোমধ্যে পুরোপুরি মেরামত করা হয়েছে। নতুন এলএনজি কার্গোও দেশে এসে পৌঁছেছে এবং গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করেছে এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। সংকটের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকার সেসব চক্রান্ত শনাক্ত করে প্রতিহত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।
দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে উন্নয়নের দাবি
বর্তমান সরকারকে জনকল্যাণমুখী সরকার হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে।
অতীতের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশেষ করে ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ মেগা প্রকল্পের নামে ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে প্রকৃত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, জনগণের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
সংগঠন শক্তিশালী করাকে অগ্রাধিকার
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনের বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রিজভীর মতে, একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক শক্তি নির্ভর করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা, পারস্পরিক সমন্বয় এবং দলের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। তাই সংগঠনের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজে দলের সহকর্মীদের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে আসছে নতুন নেতৃত্ব
বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিষয়ে রিজভী বলেন, যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সম্মেলন আয়োজন করা হবে।
তিনি জানান, সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে কেউ সরে দাঁড়ালেও তাকে সংগঠন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হবে না। বরং তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা বিবেচনায় ভবিষ্যতে বিএনপি বা দলের অন্য কোনো সংগঠনে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
রিজভীর বক্তব্যে দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সক্রিয় করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, সরকারের জবাবদিহিতা এবং বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন—এসব বিষয়েই রোববারের বক্তব্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
পাঠকের মন্তব্য