
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ইংল্যান্ড থেকে এসেছে দারুণ এক খবর। বোরহাম উডের জার্সিতে প্রথমবারের মতো একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ।
ন্যাশনাল লিগ ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে লিডস ইউনাইটেড অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে ৫-২ গোলের বড় জয় পেয়েছে বোরহাম উড। দলের এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ১৯ বছর বয়সী ফারহান। ম্যাচে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সরাসরি অবদান রাখেন তিনি।
প্রথম একাদশে সুযোগ, এরপরই গোল
বোরহাম উডের হয়ে নিজের প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই ম্যাচে প্রভাব ফেলেন ফারহান। ম্যাচের ৪১ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে গোল এনে দেন তিনি। এটি ছিল বোরহাম উডের জার্সিতে তাঁর প্রথম গোলও।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও দলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফারহান। তাঁর তৈরি করা সুযোগ থেকেই তারান আল্লারাখিয়া গোল করে বোরহাম উডের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন।
একজন তরুণ উইঙ্গারের জন্য ম্যাচটিতে এটিই ছিল বড় সাফল্যের জায়গা। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং আক্রমণভাগে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে নিজের সক্ষমতার জানান দেন তিনি।
৮২ মিনিটে দেখা গেল ব্যক্তিগত দক্ষতার ঝলক
ম্যাচের শেষ দিকে ফারহানের ব্যক্তিগত দক্ষতার আরও বড় প্রদর্শনী দেখা যায়। ৮২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানার দিকে এগিয়ে যান তিনি।
এ সময় লিডসের এক ডিফেন্ডারকে পায়ের কারিকুরিতে দুবার পরাস্ত করেন ফারহান। এরপর গোলের উদ্দেশ্যে নেওয়া তাঁর শট অবশ্য দারুণ রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন লিডসের গোলরক্ষক কুক।
শটটি জালে জড়ালে ফারহানের রাতটি আরও স্মরণীয় হয়ে উঠত। তবে গোল না হলেও ওই মুহূর্তে তাঁর গতি, নিয়ন্ত্রণ ও ড্রিবলিং দক্ষতা নজর কেড়েছে।
প্রথম ম্যাচেই বোরহাম উডের প্রশংসা
ফারহানের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বোরহাম উডও। ক্লাবটির ওয়েবসাইটে তাঁর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, প্রথম ম্যাচেই ফারহান দারুণ চমক দেখিয়েছেন।
বল নিয়ে তাঁর স্বাভাবিক গতিময় দৌড় এবং বুদ্ধিদীপ্ত ছোট পাসগুলো ছিল প্রশংসনীয়। মাঝেমধ্যে বল হারালেও দ্রুত তা পুনরুদ্ধারের মানসিকতাও নজর কেড়েছে।
ফলে অভিষেক ম্যাচেই শুধু গোল কিংবা অ্যাসিস্ট নয়, মাঠজুড়ে তাঁর সক্রিয়তা ও পরিশ্রমও ক্লাবের নজরে এসেছে।
ফুলহামের একাডেমি থেকে পেশাদার ফুটবলে
ফারহানের ফুটবলযাত্রাও বেশ আকর্ষণীয়। মাত্র ১২ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফুলহামের একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। বয়সভিত্তিক পর্যায়েই নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন এই উইঙ্গার।
ফুলহামের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে ১৭ ম্যাচে ৭ গোল করেন ফারহান। এরপর অনূর্ধ্ব-২১ দলেও অভিষেক হয় তাঁর এবং সেখানেও গোলের দেখা পান তিনি।
তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে ফুলহামের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করেন ফারহান। এর মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবলে নিজের ভবিষ্যতের পথ আরও শক্ত করেন তিনি।
গত মৌসুমেও ছিলেন দুর্দান্ত
ফুলহামের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ-২-এও দারুণ সময় কাটিয়েছেন ফারহান। ২১ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৬টি। এর সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে আরও ৯টি গোল করিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই তরুণ। তাঁর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তাঁকে আরও বড় পর্যায়ে আলোচনায় নিয়ে আসে।
গত নভেম্বরে মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন ফারহান। শুধু তাই নয়, লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও জায়গা করে নেন তিনি।
বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার আলো
ইংল্যান্ডের ফুটবলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো তরুণের এমন পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ফারহানের বয়স এখনো মাত্র ১৯ বছর। সামনে তাঁর ক্যারিয়ারে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
বোরহাম উডের হয়ে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল, সতীর্থকে গোল করাতে সহায়তা এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার প্রদর্শন—সব মিলিয়ে ফারহানের অভিষেক হয়েছে স্মরণীয়।
ইংল্যান্ডের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নিয়মিত সুযোগ পেলে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও বাড়বে। আর সেই পথচলা সফল হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি ফুটবলের জন্যও তা হয়ে উঠতে পারে বড় এক সম্ভাবনার গল্প।
পাঠকের মন্তব্য