
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রফতানি আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বিশ্ববাজারে তুলাভিত্তিক পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ক্রেতাদের পছন্দ এখন শুধু প্রচলিত তুলার পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই; কৃত্রিম ও মানুষ তৈরি তন্তু, পুনর্ব্যবহারযোগ্য তন্তু, কারিগরি পোশাক এবং উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—শুধু বেশি পোশাক উৎপাদন ও রফতানি করে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না। সংশ্লিষ্টদের মতে, তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে তুলাভিত্তিক পোশাকের পাশাপাশি অ-তুলাভিত্তিক পণ্য, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী পোশাকে দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তুলার ওপর বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতা
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাক রফতানির প্রায় ৭২ দশমিক ৭ শতাংশই তুলাভিত্তিক। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী পোশাক রফতানিতে তুলার অংশ প্রায় ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রফতানি প্রায় দ্বিগুণ বেশি তুলানির্ভর।
প্রধান পোশাক রফতানিকারক কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যানেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। ভিয়েতনামের পোশাক রফতানিতে তুলার অংশ প্রায় ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ, চীনে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ায় ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তানে তুলার অংশ প্রায় ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ভারতে প্রায় ৭৪ শতাংশ।
এই চিত্র বলছে, বাংলাদেশ এখনো প্রচলিত তুলার পোশাকের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। একদিকে এটি দেশের দীর্ঘদিনের শিল্পদক্ষতার প্রতিফলন, অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানোর ক্ষেত্রে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
মানুষ তৈরি তন্তুতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন
তবে বাংলাদেশের পোশাক খাতে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। ২০১৬ সালে দেশের পোশাক রফতানিতে মানুষ তৈরি তন্তুর অংশ ছিল মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অর্থাৎ গত এক দশকে অ-তুলাভিত্তিক পোশাকের সক্ষমতা কিছুটা বাড়লেও সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবর্তনের এই গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ বিশ্ববাজারে কৃত্রিম ও মানুষ তৈরি তন্তুর ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
খেলাধুলার পোশাক, শীতবস্ত্র, বাইরের ব্যবহারের পোশাক, কর্মক্ষেত্রের বিশেষায়িত পোশাক এবং বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের পণ্যে কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার বেশি। এসব পণ্যের উৎপাদনে তুলনামূলক উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিশেষায়িত উৎপাদনব্যবস্থা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ বর্তমানে তৈরি পোশাকের উৎপাদন ও সেলাইয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাকের পুরো সরবরাহব্যবস্থায় এখনও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও কাপড় আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় ও সময় বাড়ার পাশাপাশি দ্রুত ক্রয়াদেশ গ্রহণের সক্ষমতাও সীমিত হয়।
কেন অ-তুলাভিত্তিক পোশাকে গুরুত্ব বাড়ছে
বিশ্ববাজারে ক্রেতাদের চাহিদা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। সাধারণ টি-শার্ট, শার্ট বা ট্রাউজারের পাশাপাশি তারা এমন পোশাক চাইছেন, যেগুলো নির্দিষ্ট ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
খেলাধুলার পোশাকের ক্ষেত্রে হালকা ও দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন কাপড়, শীতবস্ত্রে তাপ ধরে রাখার সক্ষমতা, কর্মক্ষেত্রের পোশাকে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং বাইরের ব্যবহারের পোশাকে স্থায়িত্বের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব পণ্যের বড় অংশই মানুষ তৈরি বা বিশেষায়িত তন্তুর ওপর নির্ভরশীল।
ফলে এই বাজারে প্রবেশ করতে পারলে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে শুধু পণ্যের বৈচিত্র্যই বাড়বে না, রফতানি মূল্যে মূল্য সংযোজনও বাড়তে পারে।
বিনিয়োগ বাড়ানো এখন প্রধান প্রয়োজন
অ-তুলাভিত্তিক পোশাকের উৎপাদন বাড়াতে হলে শুধু নতুন পোশাক কারখানা স্থাপন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পুরো শিল্প-সরবরাহব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।
কৃত্রিম তন্তু প্রক্রিয়াজাতকরণ, সুতা ও কাপড় উৎপাদন, রং করা, পরিশোধন, ফিনিশিং এবং বিশেষায়িত কাপড় তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে এসব সক্ষমতা তৈরি করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং পোশাক উৎপাদনের সময়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এ ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এলে নতুন শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে মানুষ তৈরি তন্তুর কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পোশাক পর্যন্ত একটি সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষ জনবলের প্রয়োজন
অ-তুলাভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেই হবে না; প্রয়োজন প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল। তুলা এবং কৃত্রিম তন্তুর কাপড়ের বৈশিষ্ট্য এক নয়। ফলে এসব কাপড়ের কাটিং, সেলাই, রং, ফিনিশিং ও মান নিয়ন্ত্রণে আলাদা দক্ষতা প্রয়োজন।
এ কারণে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মানুষ তৈরি তন্তু এবং বিশেষায়িত পোশাক উৎপাদনে দক্ষ কর্মী তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে দীর্ঘদিন ধরে তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর যে দক্ষতা তৈরি হয়েছে, সেটিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের তন্তুর সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পরিবর্তনের গতি আরও বাড়ানো সম্ভব।
জ্বালানি সংকট বড় বাধা
অ-তুলাভিত্তিক পোশাকশিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি সরবরাহ। কৃত্রিম তন্তুর কাপড় প্রক্রিয়াজাতকরণ, রং ও ফিনিশিংয়ের মতো শিল্পে তুলনামূলক বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশের শিল্প খাত যখন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সমস্যার মুখোমুখি, তখন জ্বালানিনির্ভর নতুন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও কঠিন হতে পারে।
তাই মানুষ তৈরি তন্তু ও বিশেষায়িত পোশাক খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও দ্রুত উন্নত করতে হবে।
লক্ষ্যভিত্তিক নীতিসহায়তা জরুরি
অ-তুলাভিত্তিক পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে সরকারের নীতিসহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ প্রণোদনার পাশাপাশি কৃত্রিম ও কারিগরি তন্তু উৎপাদন, কাপড় প্রক্রিয়াজাতকরণ, রং ও ফিনিশিং সক্ষমতা তৈরিতে লক্ষ্যভিত্তিক সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ঋণ, প্রযুক্তি আমদানিতে সহায়তা, শিল্প অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করার মতো পদক্ষেপ এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
বিশ্ববাজারে যেসব দেশ অ-তুলাভিত্তিক পোশাকে এগিয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা থেকেও বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে। স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নীতিসহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাতে দ্রুত সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব।
এলডিসি উত্তরণেও প্রস্তুতি প্রয়োজন
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ধরন আরও পরিবর্তিত হতে পারে। শুল্কসুবিধা, বাণিজ্যনীতি এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে দেশের পোশাকশিল্পকে।
সাধারণ ও তুলাভিত্তিক পোশাকের ক্ষেত্রে শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বাজার ধরে রাখা তখন আরও কঠিন হতে পারে। তাই এখন থেকেই উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য, বিশেষায়িত পোশাক এবং অ-তুলাভিত্তিক পণ্যের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে পোশাক খাতের বর্তমান শক্তিকে ধরে রেখে নতুন পণ্যের দিকে অগ্রসর হওয়াই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল।
তুলা থাকবে শক্তি, তবে ভবিষ্যৎ হবে বৈচিত্র্যময়
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, দক্ষ শ্রমশক্তি ও শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা তুলাভিত্তিক পোশাকে দেশের বড় সম্পদ। তাই কৃত্রিম তন্তুর দিকে যাওয়ার অর্থ তুলার পোশাককে বাদ দেওয়া নয়।
বরং বর্তমান সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাজার ও নতুন পণ্যের সক্ষমতা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তুলাভিত্তিক পোশাকে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি মানুষ তৈরি তন্তু, কারিগরি বস্ত্র ও উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত পোশাকের বাজারে প্রবেশ করতে হবে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে তুলাভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে যে দক্ষতা অর্জন করেছে, সেটিই দেশের অন্যতম বড় শক্তি। তবে বিশ্ববাজারের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় এখন শুধু বেশি পরিমাণে পোশাক উৎপাদন করলেই হবে না; কোন ধরনের পোশাক উৎপাদন করা হচ্ছে এবং কতটা মূল্য সংযোজন করা যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে তুলার ওপর নির্ভরতা এখনও অনেক বেশি। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, চীন ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো মানুষ তৈরি তন্তু ও অন্যান্য অ-তুলাভিত্তিক পণ্যে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ফলে তারা পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত পোশাকের বাজারেও নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করেছে।
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, মানুষ তৈরি তন্তুর পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের এগিয়ে যেতে হলে শুধু পোশাক কারখানার সংখ্যা বাড়ালে হবে না। তন্তু ও সুতা থেকে কাপড় তৈরি, রং, ফিনিশিং এবং বিশেষায়িত কাপড় প্রক্রিয়াজাতকরণ—পুরো শিল্প-সরবরাহব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, উৎপাদনের সময় কমবে এবং ক্রেতাদের দ্রুত চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, এ পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ জরুরি। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে। মানুষ তৈরি তন্তু, কারিগরি বস্ত্র, উন্নত রং ও ফিনিশিং এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে সরকারকে কার্যকর নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
পরিমাণ থেকে মূল্য সংযোজনে যাওয়ার সময়
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এতদিন মূলত বিপুল পরিমাণ পোশাক প্রতিযোগিতামূলক দামে উৎপাদন ও রফতানির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। কিন্তু আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় শুধু পরিমাণের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট হবে না।
চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা দ্রুত সরবরাহ, উন্নতমান, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং বিশেষায়িত পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে দুটি কাজ সমান্তরালে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একদিকে তুলাভিত্তিক পোশাকে বিদ্যমান দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা, অন্যদিকে দ্রুত অ-তুলাভিত্তিক পোশাকের উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা।
এই দুই ধারাকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ শুধু বেশি পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবেই নয়, বরং উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবেও বিশ্ববাজারে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের পরবর্তী বড় সাফল্য শুধু কত বেশি পোশাক রফতানি করা হলো, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং কী ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে, সেই পণ্যে কতটা মূল্য সংযোজন করা যাচ্ছে এবং বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত চাহিদা কত দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে—এসব বিষয়ই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির মূল নির্ধারক হয়ে উঠবে।
তুলা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের শক্তি হিসেবে থাকবে। তবে এর পাশাপাশি কৃত্রিম, কারিগরি ও অন্যান্য অ-তুলাভিত্তিক তন্তুর পোশাকে সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। বিনিয়োগ, দক্ষতা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও নীতিসহায়তার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারলে এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন প্রবৃদ্ধির পথ তৈরি করতে সক্ষম হবে।
পাঠকের মন্তব্য