ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ইন্দোনেশিয়ায় ফের ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সুমাত্রা অঞ্চলে নতুন করে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিএফজেড) এ তথ্য জানিয়েছে।
জিএফজেডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫৪ কিলোমিটার গভীরে। তবে এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার ভোরে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শত শত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্ডে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে।
ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে কম্পনের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। এসব ভিডিওতে ভবনগুলোকে প্রচণ্ডভাবে দুলতে এবং কয়েকটি স্থাপনা ধসে পড়তে দেখা যায়। আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করতেও দেখা গেছে।
নাগেওকেও এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি বাজারে ছিলেন। হঠাৎ মাটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে শুরু করলে বাজারে থাকা মানুষজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিবারের সবাই নিরাপদে আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে তারা আপাতত এলাকা ছেড়ে পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভূমিকম্পপ্রবণ ইন্দোনেশিয়ায় নতুন আতঙ্ক
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটির অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে হওয়ায় সেখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অতীতেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।
২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলের কাছে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই প্রাণ হারান প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।
এ ছাড়া ২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে একের পর এক কম্পন অনুভূত হয়। ওই সময় লম্বক ও পার্শ্ববর্তী সুম্বাওয়া দ্বীপে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
সর্বশেষ শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং এর পরপরই নতুন করে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে দ্বিতীয় ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।
পাঠকের মন্তব্য