
ইবি রিপোর্ট
চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে নিট ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হবে। নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বাড়তি ব্যয় সরকারের অর্থের চাহিদা বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ডিসেম্বর প্রান্তিকের ট্রেজারি বিল-বন্ডের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও চলছে। এই দুই কারণে সরকারের অর্থের প্রয়োজন বাড়ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় ২৯ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সরকারের বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণও বড়। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে আগামী তিন বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি বছরেই অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, জুলাই, ডিসেম্বর ও আগামী বছরের জুলাইয়ে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ধরনের ভাতা পাবেন।
রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া এবং নতুন বেতন কাঠামোর অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত ঋণ সংগ্রহ করবে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক থেকে নেওয়া এই ঋণ কোন খাতে ব্যয় করা হবে, তা নির্ধারণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়লে এর সঙ্গে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়বে।
ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে সরকারের ভবিষ্যৎ ব্যয়ের কাঠামোতেও প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় রাজস্ব আয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে চলতি প্রান্তিকে সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের প্রান্তিকের তুলনায় কম। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা।