
ইবি রিপোর্ট
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার ও সরকারি দলের নেওয়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ২৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় সরকার ও সরকারি দল সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করলেও এত বড় ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু দলীয় ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘রাতের অন্ধকারে রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় অবশেষে সরকার ও সরকারি দল বাধ্য হয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এত বড় অপকর্মের জন্য শুধু সাংগঠনিক পদক্ষেপ মোটেই যথেষ্ট নয়। কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশবাসী দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায়।’
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্বও সরকারকে পালন করতে হবে।’
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আলোচনায় আসে। পরে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি।
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মিষ্টির পদত্যাগের ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের ২৩ নম্বর আসনটি ১ অক্টোবর থেকে শূন্য হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগগুলো তদন্তাধীন।
ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। এ বিষয়ে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে মিষ্টির পদত্যাগ এবং শফিকুর রহমানের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির মধ্য দিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
পাঠকের মন্তব্য