
ইবি স্পোর্টস ডেস্ক
পর্তুগাল জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অবস্থান ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে জল্পনা। জাতীয় দলের অনুশীলনে অংশ না নেওয়ার পর এবার অনুমতি ছাড়াই দলের ক্যাম্প ত্যাগ করেছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার। তার এমন সিদ্ধান্তে পর্তুগাল দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এ বোলা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের ক্যাম্পে যথাযথভাবে ডাক পাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় যথাযথ কারণ ছাড়া দলের কোনো কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে বা দলীয় কার্যক্রম ছেড়ে গেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হতে পারে। পাশাপাশি পেশাদার খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ ইউসি পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রয়েছে। প্রতি ইউসির মূল্য ১০২ ইউরো হিসেবে এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৫১০ থেকে ১ হাজার ২০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। তবে ওয়েলসের বিপক্ষে দলের সর্বশেষ ম্যাচে তাকে একাদশে দেখা যায়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে পর্তুগাল ১-০ গোলে জয় পায়।
ম্যাচটির পরবর্তী অনুশীলনেও অংশ নেননি রোনালদো। এ নিয়ে তার জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগালের প্রধান কোচ হোর্হে জেসুস দাবি করেন, রোনালদোকে ঘিরে দলে কোনো সমস্যা নেই। তবে এর পরেই পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা নিজেই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান।
রোনালদোকে ক্যাম্পে রাখার জন্য চেষ্টা করেছিলেন পর্তুগালের প্রধান কোচ হোর্হে জেসুস এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে থামানোর জন্য দুজনই বিমানবন্দর পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রোনালদোকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজি করানো সম্ভব হয়নি। তিনি ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান।
রোনালদোর এমন সিদ্ধান্তের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে অনুমতি ছাড়া চলে যাওয়ার ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না।
ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যথাযথ কারণ ছাড়া জাতীয় দলের কোনো কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকা বা দলীয় কার্যক্রম থেকে সরে যাওয়ার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার বিধান রয়েছে। ফলে রোনালদোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
তবে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পেছনে তার নির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তাই ফেডারেশন বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রোনালদোর বয়স ৪১ বছর হলেও তিনি এখনও পর্তুগাল জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং গোলের রেকর্ডের কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তই পর্তুগিজ ফুটবলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।
এ অবস্থায় জাতীয় দলের অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকা এবং পরবর্তীতে অনুমতি ছাড়া ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা রোনালদো ও পর্তুগাল দলের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
পাঠকের মন্তব্য