![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নতুন করে পর্যালোচনা করছে সরকার। কোথায় এই সেতু নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাটুরিয়া ঘাট ও আশপাশের এলাকাকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যুগান্তর মাল্টিমিডিয়াকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও রয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ আগে করা হয়েছিল। এখন সেই ফিজিবিলিটি স্টাডি আবারও পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘পদ্মা দ্বিতীয় সেতু নিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি আমরা রিচেক করছি।’
কোথায় হতে পারে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু?
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু কোথায় নির্মাণ করা হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, এখনো কোনো স্থান চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে পাটুরিয়া ঘাট অথবা এর আশপাশের এলাকা সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আগের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ফলাফল নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ পর্যালোচনা শেষে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও উপযুক্ত স্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বড় প্রকল্প নয়, জনবান্ধব প্রকল্পে গুরুত্ব
সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্পের পরিবর্তে জনসাধারণের সরাসরি উপকার হয়—এমন প্রকল্পকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় বলেও জানান সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্বাচনের সময়ই তারা জানিয়েছিলেন, সরকার অতি বড় প্রকল্পে অগ্রাধিকার না দিয়ে জনবান্ধব প্রকল্পকে গুরুত্ব দেবে।
তার ভাষ্য, উন্নয়ন বলতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণকে বোঝালে হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট মানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার শুধু বুঝাতে চাই না। আমরা ডেভেলপমেন্ট মানে বুঝাতে চাই ১৮ কোটি মানুষের সক্ষমতা। এটাই ডেভেলপমেন্ট।’
ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগে অগ্রাধিকার
সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কথাও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য এমন একটি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে যানজটের ঝুঁকি কম থাকবে এবং যাতায়াত আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অর্থায়নের ধরন নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। এ প্রকল্পে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মডেল অনুসরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত
মন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। তবে বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প নেওয়ার আগে এর প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, সম্ভাব্য ব্যয় এবং জনসাধারণের উপকারিতাসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে।
বর্তমানে পুরোনো ফিজিবিলিটি স্টাডি পুনরায় পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে প্রকল্পটি। এই যাচাই শেষে কোথায় সেতুটি নির্মাণ করা হবে এবং কীভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাটুরিয়া বা আশপাশের এলাকা আলোচনায় থাকলেও এখনই নির্দিষ্ট কোনো স্থানকে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।
পাঠকের মন্তব্য