![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সাধারণ খাবারের লবণ থেকেই ব্যাটারি তৈরির প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি স্টার্টআপ। দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রযুক্তি ভবিষ্যতে লিথিয়ামনির্ভর ব্যাটারি শিল্পে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
দুষ্প্রাপ্য ও ব্যয়বহুল উপাদানের পরিবর্তে তুলনামূলক সহজলভ্য সোডিয়াম ব্যবহার করায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাটারি উৎপাদনের কাঁচামালের ক্ষেত্রে চীনের ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
লিথিয়ামের বিকল্প সোডিয়াম
বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে লিথিয়ামসহ প্রয়োজনীয় কিছু কাঁচামালের সরবরাহ ও উৎপাদনে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর বিশ্ববাজারের বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। গবেষক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, লিথিয়ামের তুলনায় সোডিয়াম সহজলভ্য হওয়ায় এ ধরনের ব্যাটারি উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হতে পারে।
এ ছাড়া সোডিয়ামভিত্তিক ব্যাটারিকে তুলনামূলক নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ গ্রিড ও ডেটা সেন্টারের মতো স্থাপনায় ব্যাকআপ পাওয়ারের জন্য এর ব্যবহার বাড়ছে।
সাবেক জিএম ও টেসলা প্রকৌশলীদের উদ্যোগ
এই প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ পিক এনার্জি কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জেনারেল মোটরস ও টেসলার সাবেক প্রকৌশলীরা।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে একটি নতুন গিগাফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে পিক এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ২০২৭ সালের শুরু নাগাদ সেখানে বছরে প্রায় ৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করা।
অন্যদিকে ইনলাইট এনার্জি লোহা, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড এবং খাবারের লবণের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ধরনের টিউব আকৃতির ব্যাটারি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের তৈরি ব্যাটারিতে আগুন ধরে যাওয়ার ঝুঁকি নেই।
এক দশকে বাড়তে পারে সোডিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার
বাজার বিশ্লেষণেও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সম্ভাবনা উঠে এসেছে। মর্গান স্ট্যানলির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বে উৎপাদিত ব্যাটারির এক-তৃতীয়াংশের বেশি লিথিয়ামের পরিবর্তে সোডিয়ামভিত্তিক হতে পারে।
তবে প্রযুক্তিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তুলনামূলক ভারী হওয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো ক্ষেত্রে এখনো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিকে বেশি কার্যকর মনে করা হয়। ফলে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে সোডিয়াম ব্যাটারির ব্যাপক ব্যবহার এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
উৎপাদনে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে বিশ্বের সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বড় অংশই চীনে উৎপাদিত হচ্ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপগুলো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি বড় পরিসরে উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে।
আলসিম এনার্জির প্রধান নির্বাহী মুকেশ চ্যাটার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না থাকলেও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পেলে ব্যাপক উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় আবারও চীনের কাছে পিছিয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজলভ্য কাঁচামাল ব্যবহার করে ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও গ্রিড ব্যাকআপের মতো ক্ষেত্রে সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।