![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে শনিবার ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা মিরপুর-১০ স্টেশনে কোনো মেট্রোরেল থামানো হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিত করে, দুটি স্থানেই কোনো বিস্ফোরক বা বোমা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরের পর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ পরিত্যক্ত বস্তু থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে মিরপুর-১০ স্টেশনে মেট্রোরেলের যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়।
এমআরটি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা যাচাই শেষে বেলা ২টা ৩৬ মিনিট থেকে মেট্রোরেল চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
সন্দেহজনক ব্যাগে ছিল জর্দার কৌটা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) নিয়াজ মেহেদী জানান, প্রথমে মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে রাখা একটি ব্যাগকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেটি এক্স-রে করা হয়। স্ক্যানে কৌটার মতো একটি বস্তু দেখা গেলেও পরে ব্যাগ খুলে পাওয়া যায় একটি জর্দার কৌটা ও পান। সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পড়ে থাকা একটি বস্তা নিয়েও যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়, বস্তার ভেতরে কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু ছিল না।
সামাজিক মাধ্যমে গুজবে বাড়ে উদ্বেগ
ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত বোমাতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে একের পর এক পোস্ট হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ে। বিশেষ করে মিরপুর-১০ স্টেশনে ট্রেন না থামায় অনেক যাত্রী বিভ্রান্তির মুখে পড়েন।
মতিঝিলের আইইডি উদ্ধারের ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কয়েক দিন আগেই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি দূরনিয়ন্ত্রিত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মতিঝিলে উদ্ধার হওয়া আইইডিটি সাধারণ ককটেল বা দেশীয় বোমা ছিল না; বরং এটি ছিল দক্ষ কারিগরি কৌশলে তৈরি একটি রিমোট-কন্ট্রোল বিস্ফোরক। সময়মতো সেটি নিষ্ক্রিয় করায় বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
পুলিশ বলছে, জননিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অনুসরণ করেই তা পরীক্ষা করা হয়। যদিও মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবুও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য