ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সহযোগীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান দেখানো হলেও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা ভিন্ন। এক মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প কিংবা তার শীর্ষ সহযোগীদের কেউই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও প্রশাসনের ভেতরে স্পষ্ট কোনো ঐকমত্য নেই। কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কৌশল নির্ধারণে মতপার্থক্য কাটেনি।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি এনবিসি নিউজকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে এতটা জটিলতা হবে বলে ধারণা করেননি। যুদ্ধ কতদিন চলবে, কীভাবে শেষ হবে কিংবা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কী কৌশল নেওয়া উচিত—এসব বিষয়ে শুরু থেকেই স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব ছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চাননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কাই বাড়ছে।
যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্পের ক্ষোভ বা মেজাজ হারানোর খবর অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের একটি দক্ষ ও ঐক্যবদ্ধ টিম রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিজেই গ্রহণ করেন।
তবে এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য নির্ধারণে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, নাকি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা—এ বিষয়ে প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্ট অবস্থান নেই।
মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, সুস্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনা ছাড়াই সামরিক বাহিনী আবারও বড় পরিসরের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, সামরিকভাবে কিছু সাফল্য এলেও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও নীতিগত দিকনির্দেশনার অভাবে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পেলেই প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেন্টকমের কমান্ডার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের নেতৃত্ব ইরান-সংক্রান্ত সামরিক লক্ষ্য, কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে সম্পূর্ণ সমন্বয়ের মধ্যেই কাজ করছে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সুস্পষ্ট কৌশল ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য