![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৯ নারীকে পুশইনের অভিযোগ ঘিরে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খেয়ারমাহমুদপুর সীমান্তে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত ওই নারীদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
রবিবার ভোররাতে বিএসএফ সীমান্তের ভারতীয় অংশে অবস্থানরত ওই নয় নারীকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। বর্তমানে তারা কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ প্রথমবারের মতো ওই নারীদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত অবস্থান নেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীও লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তে অবস্থান নেন এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেন।
প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই নারীদের আন্তর্জাতিক সীমান্তের ২৯১ নম্বর প্রধান পিলারের ২০ নম্বর সাব-পিলারের সংলগ্ন ভারতের প্রায় ১০ গজ অভ্যন্তরে বসিয়ে রাখে। শনিবার দিনভর তারা সেখানেই অবস্থান করেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই নারীরা দীর্ঘ সময় না খেয়ে মানবেতর অবস্থায় ছিলেন।
জানা গেছে, ওই নয় নারীকে ভারতের রাজস্থান থেকে বিমানযোগে সীমান্ত এলাকায় এনে জড়ো করা হয়েছিল। এরপর সুযোগ বুঝে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তজুড়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করেন, যাতে নতুন করে কোনো পুশইনের চেষ্টা সফল না হয়।
রবিবার ভোরে বিএসএফ আবারও একই চেষ্টা চালায়। তবে এবারও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। পরে সীমান্তে অবস্থানরত নয় নারীকে নিয়ে ভারতীয় বাহিনী সেখান থেকে সরে যায়।
খেয়ারমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শুকুর আলী জানান, শুক্রবার প্রথমবার পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি স্থানীয়রাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সীমান্ত পাহারায় অংশ নেন। ফলে বিএসএফ দ্বিতীয়বারও তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারেনি।
তিনি বলেন, সীমান্তে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সীমান্তের ওই এলাকায় এখন আর কাউকে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সচেতন ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহলও জোরদার রাখা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য