![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি শিল্পে পরিণত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বিপুল তরুণ জনশক্তি, দক্ষ প্রকৌশলী এবং বিশ্বজুড়ে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় নভোথিয়েটারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই পরিকল্পিত বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের প্রসারে জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস শিল্পের পর আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।’
তারেক রহমান জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক কোম্পানি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এই দক্ষ মানবসম্পদকে দেশের প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তিতে সক্ষমতা গড়ে তুলতে শুরু করেছে। দেশের কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। এ খাতের বিকাশে কর ও শুল্ক সুবিধা, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্টার্টআপ অনুদান হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
তারেক রহমান বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়ন কোনো একক মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, প্রবাসী প্রযুক্তিবিদ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, নীতিগত জটিলতা দূর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে রোডশো আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি স্বীকার করেন, পর্যাপ্ত গবেষণাগার, আধুনিক প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি, তৈরি পোশাক, রেমিট্যান্স এবং ডিজিটাল সেবাখাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সাফল্য অর্জন করেছে। এখন সময় এসেছে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী বড় রপ্তানি শিল্প হিসেবে সেমিকন্ডাক্টর খাতকে গড়ে তোলার।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ, গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিল্পকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
পাঠকের মন্তব্য