![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তিনি সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। এরপর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র পাঠ করে শোনানোর পর স্পিকার বলেন, “জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এ পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করেছি। যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নিয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন তার শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সম্প্রতি তার শরীরে Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, এসব শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, অথবা অসুস্থতা, অনুপস্থিতি কিংবা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
পাঠকের মন্তব্য