![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি ভালো বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়; জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বিভাগীয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, গত দেড় থেকে দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত জাতীয় বাজেট দেশের বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তবে বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করা জরুরি। গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
অর্থমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে এসে পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উদ্ভাবনী চিন্তা ও আধুনিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। বিভাগীয় সভাগুলোকে আরও কার্যকর করতে কর্মকর্তাদের মুক্তভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না, বরং তার বাস্তবসম্মত সমাধানও তুলে ধরতে হবে। অনুবিভাগগুলোর কাছ থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মতামত পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর হবে।
জাতীয় অর্থনীতির কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে অর্থ বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
এদিকে সচিবালয়ে কক্সবাজার জেলার সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের উন্নয়নসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই পর্যটন খাতে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবা খাতের বিকাশ জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বৃদ্ধি করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।