ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি পৃথক সূত্র রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পারিবারিক সূত্রও দেশীয় গণমাধ্যমকে একই ধরনের তথ্য দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন। দুটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আরেকটি সূত্রের দাবি, গত মঙ্গলবারই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং আজ শুক্রবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
তবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্রই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
এদিকে বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ বিকেলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা একদিন পিছিয়ে শনিবারও হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পদত্যাগের পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে অবস্থান করবেন। এরপর চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য বিদেশে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে তার বাসভবন প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
স্পিকার বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। তাই কে পদত্যাগ করবে বা করবে না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে তিনি সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।”
তিনি আরও জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় এবং তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, কথিত ওই ফোনালাপই রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের একমাত্র কারণ নয়; এর পেছনে আরও জটিল রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয় রয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের বিভিন্ন আলোচনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
পাঠকের মন্তব্য