ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি, সরকার যদি সত্যিই সমাধান চায়, তাহলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আন্দোলনস্থল জন্তর মন্তরে আসতে হবে অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে কোনো নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক আয়োজন করতে হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা আন্দোলনরত সংগঠনটিকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান। তবে সেই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন সিজেপির নেতারা।
সংগঠনটির নেতা অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জনরোষের কারণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা জন্তর মন্তরে যেতে পারছেন না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা বলেছেন, মানুষ ক্ষুব্ধ থাকায় তারা জন্তর মন্তরে আসতে পারবেন না। আমরা বলছি, আমাদের সময় নষ্ট করবেন না।”
এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনরত তরুণ নেতাদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চলমান আন্দোলনকে সরকার কোনো রাজনৈতিক মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না। তিনি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা যেকোনো সময়, সময়সীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই, নাড্ডার সরকারি বাসভবন কিংবা দপ্তরে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
তবে সিজেপি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে, তবে সেটি অবশ্যই নিরপেক্ষ স্থানে হতে হবে। অন্যথায় তারা আলোচনায় অংশ নেবেন না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে অভিজিৎ দীপ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী ডিজিটাল সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের পরজীবী ও তেলাপোকা-সংক্রান্ত এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে সিজেপি। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ এবং শিক্ষার্থীদের একটি অংশও সংগঠনটির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার পথ খুলতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য