![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী, জলবায়ু-সহনশীল এবং টেকসই নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহাম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর ভিত্তি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত নিউ আরবান এজেন্ডার মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, সাশ্রয়ী আবাসন এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সরকার সাশ্রয়ী আবাসনের সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা এবং টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের নিউ আরবান এজেন্ডা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আহাম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবনী নগর অর্থায়ন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকসই নগরায়ণ ত্বরান্বিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, এমন একটি টেকসই নগর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে উন্নয়নের সুফল থেকে কোনো মানুষ বা কোনো অঞ্চল পিছিয়ে থাকবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আরও নিরাপদ, বাসযোগ্য ও টেকসই নগরে রূপান্তর করা সম্ভব।
পাঠকের মন্তব্য