ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) অধিবেশনে এই প্রস্তাব তুলে ধরে সরকার বলেছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসকের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল লি জুনহুয়া, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন-এসক্যাপ) নির্বাহী সচিব ও আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইগ্নারাজা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, টেকসই ও নির্বিঘ্ন এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য জাতিসংঘের ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক নানা সংকট উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় বাংলাদেশ এবং নেপাল উভয় দেশই এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের প্রক্রিয়া যেন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত না করে এবং রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অধিবেশনে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল লি জুনহুয়া বাংলাদেশের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এলডিসি উত্তরণ সফল ও টেকসই করতে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, ইকোসকের প্রেসিডেন্ট লোক বাহাদুর থাপার সভাপতিত্বে নিউইয়র্কে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিভিন্ন ধাপে থাকা ১৪টি দেশের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানো হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
পাঠকের মন্তব্য