![]()
সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। কুশিয়ারা নদীর মারকুলি স্টেশনে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি সামগ্রিকভাবে বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ৪০ মিটার, যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানির উচ্চতা ১৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে জেলায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮ দশমিক ৬৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলেও উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ছে।
জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড়ে। ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী কয়েক দিনে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, বর্তমানে বৃষ্টি কিছুটা কমে পানি নামলেও সামনের দিনগুলোতে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১২টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে এবং সুনামগঞ্জের চারটি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য