![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু এবং সম্প্রসারণে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে নতুন উদ্যোক্তারা কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগে এই তহবিলের পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি টাকা, যা এখন বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
এই তহবিলের আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। আর প্রয়োজনীয় জামানত প্রদান করলে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নতুন ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য বড় সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।
স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি পৃথক ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ নামমাত্র সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে।
শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো যাতে মূলধনী বিনিয়োগও পেতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশের ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদীয়মান স্টার্টআপগুলো সরাসরি ইক্যুইটি বিনিয়োগ বা মূলধনী সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশের শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সফলভাবে শেষ হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার নতুন একটি বৃহৎ তহবিল গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সরকারের আশা, সহজ শর্তে ঋণ, স্বল্প সুদে অর্থায়ন এবং মূলধনী বিনিয়োগের এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে নতুন গতি এনে দেবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবনভিত্তিক ব্যবসা বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।