![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের কাদাপা জেলায় আবারও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি জেলায় নতুন করে আটজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কাদাপার রাজামপেট এলাকার ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জ্বর ও কাশির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ছাড়া কাদাপার ৪৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে করোনা পরীক্ষায় তার সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হাসপাতালের করোনা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, কাদাপা মেডিকেল কলেজের ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন সংক্রমণের পরপরই আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি নমুনার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাকি নমুনাগুলোর পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে কাদাপা জেলায় মোট আটজন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভাইরাসের ধরন এবং সংক্রমণের প্রকৃতি নির্ধারণে আক্রান্তদের নমুনা বিশেষ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাভিথা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জীবাণুনাশক ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত করোনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। যাদের করোনা শনাক্ত হবে, তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। অন্যদের বাড়িতে থেকেই স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত শয্যা, আইসোলেশন সুবিধা, অক্সিজেন সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার, প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহারের এবং জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।