ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
পূর্ব এশিয়াজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে এবার চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জ এবং তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল অতিক্রম করার পর তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে টাইফুনটি এখন চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতোমধ্যে ৬ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুনটির প্রভাবে চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর ওয়েনজুসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার ভোরে প্রায় এক কোটি মানুষের শহর ওয়েনজুতে টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় শীতল সমুদ্রপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে টাইফুনটির বাতাসের গতি কিছুটা কমেছে। তবে এর বিশাল মেঘমালা এবং বিপুল জলীয় বাষ্পের কারণে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ৫ লাখের বেশি এবং ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে আরও ১ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণ, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবর্তে সতর্কতা বজায় রয়েছে।
এদিকে টাইফুন ‘বাভি’ জাপান ও তাইওয়ানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে এর প্রভাবে ফিলিপাইনে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হয়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করেছে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত না হানলেও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় দেশটির সরকার। পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
টাইফুনের কারণে তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তাওইউয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৯২০টি আন্তর্জাতিক এবং ২৮০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ছুটি ঘোষণা করে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও সরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়। সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয় উত্তর-দক্ষিণ হাই-স্পিড রেল এবং কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাপ্রতিষ্ঠান।
রাজধানী তাইপের উপকণ্ঠের বেইতু এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এতে বহু গাছ উপড়ে গেছে এবং বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় চীন ও তাইওয়ান উভয় দেশের প্রশাসন উদ্ধারকারী দল, জরুরি সেবা ও ত্রাণ কার্যক্রম সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছে। আবহাওয়াবিদরা উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাঠকের মন্তব্য