![]()
ইবি রিপোর্ট
পোশাক শিল্পে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও কয়েক দিনের অস্থিরতা দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, বিনিয়োগ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ফলে সাময়িক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ড কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোনো ধরনের অস্থিরতাই প্রত্যাশিত নয়। কারণ একটি অস্থিরতা থেকে নতুন অস্থিরতার সৃষ্টি হতে পারে। তবে পোশাক শিল্পে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে না। বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনার বিষয় হওয়ায় সাময়িক পরিস্থিতি এর সিদ্ধান্তকে দুই পা পিছিয়ে দেবে কিংবা এগিয়ে নেবে না।
পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষ, বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতাদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে কয়েক দিনের অস্থিরতা ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড প্রয়োজনীয় বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণ করবে।
সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলবন্দরগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশের আগ্রহ যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট অন্য দেশের সহযোগিতাও প্রয়োজন। দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের ভিত্তিতেই সীমান্ত হাট চালু এবং স্থলবন্দর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
এর আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেমের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি দিন। এই দিনের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার আকাঙ্ক্ষা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জিয়াউর রহমান মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিলেন। সীমিত সম্পদ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ যে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, তা তিনি প্রমাণ করেছিলেন।
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গেও দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছিল। সততা, স্বজনপ্রীতিহীনতা ও দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা এখনো মানুষের কাছে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছেও মানুষ একই ধরনের সততা, দায়িত্বশীলতা ও আদর্শ প্রত্যাশা করে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক, অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী ও তাহসিনা রুশদির লুনা। এ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম এবং রেঞ্জ ডিআইজি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেকসহ অন্যান্য অতিথি।
পাঠকের মন্তব্য