![]()
চলতি বছরের শুরুতে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উৎসাহ দেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও পডকাস্টার কেটি মিলার। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই আলোচনার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার উদ্যোগ নতুন গতি পায়। নৈশভোজে ট্রাম্প বলেছিলেন, আরও কিছু সময় পেলে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করতেন। জবাবে কেটি মিলার বলেন, ‘আপনার হাতে এখনো সময় আছে।’ কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা সংবলিত একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘শীঘ্রই’।
এর পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিষয়টিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে শুরু করেন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার ভাষায়, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবে শক্তি ও ক্ষমতার ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় এবং গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সাহস কারও নেই।
১৯৫৩ সাল থেকে ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলতে শুরু করায় নতুন নৌ-বাণিজ্য পথ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। তবে ডেনমার্ক সরকার বারবার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ন্যাটো সদস্যরাও ডেনিশ ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে।
তবুও সাম্প্রতিক ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আবারও অধিগ্রহণের ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তার দাবি, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের তেমন কোনো উপকারে না এলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত স্বার্থে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
পাঠকের মন্তব্য