![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ওমান উপকূলের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা। নতুন এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, ওমানের লিমাহ উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণমুখে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় জাহাজটির বাম পাশে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার পরপরই জাহাজটিতে আগুন লাগে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার কারণ ও দায়ী পক্ষ শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারটি পূর্বে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। তবে হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালিতে কেবল তাদের অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করলেই নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব। এর বাইরে বিকল্প রুট ব্যবহারকারী বিভিন্ন জাহাজের ওপর অতীতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হতো। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথাও দেশটি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে ইরানকে কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করবে না।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তেই বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অন্তত ১০৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ফলে সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি, জ্বালানি বাজার এবং বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট নতুন মাত্রা পেতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য