![]()
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষীরা হলেন—নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলার চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সালাম এবং বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্দেশে বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব জমা দেন। সেখানে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন।
তবে দুদকের তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে অভিযোগ করা হয়, তিনি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
এছাড়া তার নামে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তার ঘোষিত সম্পদের তুলনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।
দুদকের হিসাবে, বেনজীর আহমেদ মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
এসব অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর একই কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
চার্জশিটে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
পাঠকের মন্তব্য