ইরান নীতি নিয়ে ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, আপাতত কূটনীতিতেই ভরসা
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে, নাকি আবারও বিস্তৃত সামরিক অভিযান শুরু করা হবে—এ দুটি বিকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হলেও তিনি আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনায় আসে। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এ বিকল্পকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিনিশিং দ্য জব’ নামে উল্লেখ করেছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেঙে পড়তে পারে। এ কারণে তিনি এখনই সামরিক পদক্ষেপে না গিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ১৮ আগস্টের নির্ধারিত সময়সীমার পরেও চলতে পারে। প্রয়োজন হলে আলোচনাকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষেও তিনি মত দিয়েছেন।
তবে একই সঙ্গে সীমিত পরিসরের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও খোলা রাখা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্যভিত্তিক এককালীন হামলা চালাতে পারে। তাদের মতে, এতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়েও ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পক্ষের দাবি, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আলোচনার জন্য দোহায় অবস্থান করছেন। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি বৈঠকে বসবে না।
দুই পক্ষের আলোচনায় অন্যতম অচলাবস্থার বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সেবামূলক ফি আরোপের ইরানি প্রস্তাব। যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য অবাধ থাকতে হবে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ইরান বৃহত্তর আলোচনায় এখনো সহযোগিতামূলক অবস্থান নেয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর এসকর্ট কার্যক্রমের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি বা অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘাত এড়াতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর মধ্যে একটি সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে দুই ধরনের কৌশল একসঙ্গে অনুসরণ করছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতাও বজায় রাখতে চাইছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল থাকলেও উভয় পক্ষ আপাতত পূর্ণাঙ্গ সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা করছে।