জামায়াতের ছায়া সংসদ গঠন, সময় হলে প্রকাশ করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দলটি একটি ছায়া সংসদ (শ্যাডো পার্লামেন্ট) গঠন করেছে। তিনি বলেন, এই ছায়া মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক মর্যাদা না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এমন ব্যবস্থা রয়েছে। উপযুক্ত সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা এমন একটি দায়িত্বশীল সংসদ দেখতে চান, যেখানে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে কার্যকর আলোচনা হবে। তার ভাষায়, দেশের জন্য একটি স্থিতিশীল সংসদ প্রয়োজন এবং সেই দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই জামায়াত কাজ করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের ফল বাস্তবায়ন না করায় জাতীয় জীবনে সংকট তৈরি হয়েছে। তার দাবি, গণভোটের পক্ষে শুধু জামায়াত নয়, বিএনপিও অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বলেন, জামায়াত নিয়ম মেনে সংস্কার পরিষদের শপথ নিলেও বিএনপি তা নেয়নি।
বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান না থাকায় বিএনপি এতে অংশ নেয়নি। তবে তার প্রশ্ন, অন্তর্বর্তী সরকারেরও তো সংবিধানে কোনো বিধান ছিল না। সেই সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
জামায়াত আমিরের দাবি, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি সেই জনমতকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সংসদে বিরোধী দল পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না এবং সংসদীয় কার্যক্রমে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত নিজস্ব একটি ছায়া বাজেটও উপস্থাপন করেছিল। তার মতে, সরকারের ঘোষিত বাজেট অনেকটাই তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলসহ কয়েকটি বিষয়ে বিরোধী দলের আপত্তি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। তবে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনে জামায়াত বিএনপিকে সহযোগিতা করেছিল। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম তার চোখে পড়ছে না।
পাঠকের মন্তব্য