![]()
স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একাধিক বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তৃতীয় টার্মিনালের যাত্রীসেবা পরিচালনায় দ্বিতীয় অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন অপারেটর কেবল যাত্রী ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব আগের মতোই এককভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছেই থাকবে।
আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডনাটা এবং সিঙ্গাপুরের স্যাটস। আন্তর্জাতিক পরিসরে এসব প্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর পরিচালনা ও গ্রাউন্ড সেবায় সুপ্রতিষ্ঠিত।
বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ মাফিদুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এতগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব এবং এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনারই প্রতিফলন।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নিজ নিজ দেশের প্রতিষ্ঠানের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, এটি বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।
তৃতীয় টার্মিনালে দ্বিতীয় অপারেটর নিয়োগকে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব এককভাবে পালন করে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় রয়েছে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, যাত্রী চেক-ইন, র্যাম্প অপারেশন এবং উড়োজাহাজ পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী করার বিভিন্ন কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ খাতে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে সেবার মান ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে।
নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এয়ারলাইন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, যাত্রীসেবা খাতে প্রতিযোগিতা চালুর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়েও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের অপারেটর যুক্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
টাস এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হকও একই মত প্রকাশ করে বলেন, মালিকানা সরকারের কাছে থাকলেও পরিচালনার দায়িত্ব অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলে দক্ষতা, নিরাপত্তা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনবলও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ পাবে।
তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একমাত্র অপারেটর হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, আধুনিক কার্গো ভিলেজের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মাফিদুর রহমান বলেন, নতুন কার্গো সিস্টেম অত্যন্ত আধুনিক। শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞ অপারেটর যুক্ত থাকলে স্থানীয় জনবল আরও দ্রুত দক্ষ হয়ে উঠতে পারত।
অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং পরিচালনার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি তৃতীয় টার্মিনালের জন্য এক হাজারের বেশি নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে কাজ করছে বিমান। তবে দ্বিতীয় যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা পায়নি।
চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।
পাঠকের মন্তব্য