মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিসুদ ১০ শতাংশেই রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে নীতিসুদ (পলিসি রেট বা রেপো রেট) অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট-এমপিএস) অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে নীতিসুদ ১০ শতাংশেই বহাল থাকবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত নতুন মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখনো সংকোচনমূলক (কন্ট্রাকশনারি) মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো ঋণের খরচ তুলনামূলক বেশি রেখে বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং অতিরিক্ত চাহিদা কমানো।
রেপো রেট হলো সেই সুদের হার, যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই হার ১০ শতাংশে স্থির রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১১ দফায় নীতিসুদ বাড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামেনি। চলতি বছরের মে মাসে মাসিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ফলে জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি।
এ নিয়ে টানা ছয় বছর ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। এর আগের বছর জুন মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকার পেছনে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, সরকারের উচ্চ ঋণগ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন বিঘ্ন উল্লেখযোগ্য।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে, চলমান নীতিগত পদক্ষেপের ফলে আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।