ছয় মাসে ৮৪ বার বদলেছে স্বর্ণের দাম, রেকর্ড অস্থিরতায় দেশের বাজার
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশের স্বর্ণবাজারে দেখা গেছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার প্রভাবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ সময়ের মধ্যে মোট ৮৪ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। এর মধ্যে ৪১ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪২ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মাত্র ৪০ বার। সেই তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে দামের পরিবর্তনের হার দ্বিগুণেরও বেশি, যা দেশের স্বর্ণবাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরছে।
বছরের শুরুতেই স্বর্ণের দাম কমানোর মাধ্যমে নতুন বছরের লেনদেন শুরু হয়। ১ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জানুয়ারি মাসজুড়েই টানা কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হয়।
বিশেষ করে ২৯ জানুয়ারি এক দফায় প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছে যায়। তবে এই রেকর্ডের পরপরই টানা দুই দফায় বড় অঙ্কে দাম কমানো হয়। মাত্র দুই দিনে প্রতি ভরিতে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম নামিয়ে আনা হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়। এরপরও বাজারে দাম ওঠানামা অব্যাহত থাকে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫ বার, মার্চে ১৬ বার, এপ্রিলে ১০ বার, মে মাসে ৯ বার এবং জুন মাসে ১৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়। এর মধ্যে জুন মাসে চারবার দাম বাড়ানো, ১০ বার কমানো এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
সবশেষ ৩০ জুন বাজুস আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের দামে এমন ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামার সরাসরি প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। ফলে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নিয়মিত দাম সমন্বয় করতে হয়।
বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতার জন্য বাজুস বা দেশের কোনো ব্যবসায়ী দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের লেনদেন, বিশেষ করে পেপার ট্রেডিং এবং বৈশ্বিক চাহিদা-জোগানের পরিবর্তনের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বর্ণ পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নিচ্ছেন। তবে বিশ্ববাজারে প্রকৃত স্বর্ণের তুলনায় কাগজে-কলমে লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারেও মূল্য ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য