![]()
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলের লক্ষ্য থাকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা। কারণ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে সাধারণত নকআউট পর্বে আরেক গ্রুপের শীর্ষ দলকে এড়ানোর সুযোগ মেলে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে সেই সুবিধাই এখন অনেক ক্ষেত্রে উল্টো অসুবিধায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান। তার দাবি, বর্তমান সূচি অনুযায়ী গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দলগুলোই যেন ‘শাস্তি’ পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরেও ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এর আগেই আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছিল তারা। তবে নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি তৃতীয় হওয়া সেরা আটটি দলও নকআউট পর্বে খেলবে। ফলে অনেক গ্রুপের চূড়ান্ত অবস্থান শেষ ম্যাচ পর্যন্ত নিশ্চিত হয় না। এর প্রভাব পড়েছে জার্মানির মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর ওপরও। গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেও শেষ ৩২-এ কার বিপক্ষে খেলতে হবে, তা জানতে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রুপ পর্বের প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
সূচি অনুযায়ী ২৯ জুন রাত আড়াইটায় ‘এ’, ‘সি’, ‘ডি’ অথবা ‘এফ’ গ্রুপের তৃতীয় হওয়া কোনো দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে জার্মানি। অথচ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপগুলোর শেষ ম্যাচ শেষ হবে তার মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে। ফলে ম্যাচ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির জন্য কোচিং স্টাফদের হাতে খুবই সীমিত সময় থাকছে।
ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে নাগলসমান বলেন, “আমার মনে হয়, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দলগুলো কিছুটা শাস্তি পাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ভাগ করে দিয়ে আমরা সবাই আলাদা আলাদা ম্যাচ দেখছি। আমি নিজে তিন-চারটি ম্যাচ দেখেছি, বিশ্লেষকরাও একই কাজ করছেন। তবে শনিবার রাত কাটানোর এর চেয়ে ভালো উপায় নিশ্চয়ই আছে। সামনে আমাদের নির্ঘুম রাত অপেক্ষা করছে।”
তবে এই জটিল সূচিকে অজুহাত বানাতে চান না জার্মান কোচ। তিনি বলেন, কোচিং স্টাফ আগেভাগেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের বিশ্লেষণের কাজ এগিয়ে রাখছে, যাতে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করতে না হয়। প্রয়োজন হলে রাতভর কাজ করেও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
নাগলসমানের এই মন্তব্য নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাট নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ৩২ দলের পুরোনো বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের সমীকরণ তুলনামূলক সহজ ছিল। কিন্তু ৪৮ দলের বর্তমান আসরে তৃতীয় হওয়া সেরা আটটি দলও সুযোগ পাওয়ায় অনেক গ্রুপের হিসাব শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ঝুলে থাকে। ফলে জার্মানির পাশাপাশি গ্রুপ ‘এ’-এর চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো, গ্রুপ ‘বি’-এর চ্যাম্পিয়ন সুইজারল্যান্ড এবং গ্রুপ ‘জে’-এর চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের প্রতিপক্ষ জানার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য