![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড, তারকাদের দাপট এবং প্রত্যাশিত ফলাফলের মধ্যেই অবশেষে ঘটল বড় এক অঘটন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বে চমক সৃষ্টি করেছে ইকুয়েডর।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি উপভোগ করেন ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক। শুরুতে জার্মানি এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় ইকুয়েডর।
ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই জার্মানিকে এগিয়ে দেন লিরয় সানে। দ্রুত গোল হজম করলেও ভেঙে পড়েনি ইকুয়েডর। মাত্র সাত মিনিট পরই নিলসন অ্যাঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের গোলটি আসে ৭৭তম মিনিটে। গঞ্জালো প্লাতা দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জালের দেখা পেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর। শেষ পর্যন্ত জার্মানি সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচের আগে দুইবার মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি ও ইকুয়েডর। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ সালের একটি প্রীতি ম্যাচ—দুইবারই জয় পেয়েছিল জার্মানি। তবে এবার সেই ইতিহাস বদলে দিল ইকুয়েডর।
বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে গোল পাওয়ার পর জার্মানি হয়তো প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু ইকুয়েডর দুর্দান্ত প্রেসিং, সংগঠিত আক্রমণ এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এই হারের পরও জার্মানির দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ থাকলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইকুয়েডরের জন্য এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয়।
ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল রেফারিং। যুক্তরাষ্ট্রের নারী রেফারি টরি পেনসো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করে দর্শক ও ফুটবল বিশ্লেষকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
জার্মানির বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে ইকুয়েডর প্রমাণ করেছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে অঘটনের গল্প যে এখনও লেখা হয়, তারই নতুন উদাহরণ হয়ে থাকল এই ম্যাচ।
পাঠকের মন্তব্য