![]()
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৪-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে মরক্কো। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করে আটলাস লায়ন্সরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা নিয়ে মাঠে নামা মরক্কোর সামনে বড় ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকেও নজর রাখতে হয়েছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজ, আজেদিন উনাহি এবং ইসমাইল সাইবারিকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজান কোচ ওয়াহবি। তবে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আফ্রিকার দলটি। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় হাইতি।
গোল হজমের পর মরক্কো দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। একের পর এক আক্রমণ করলেও হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিদে অসাধারণ কিছু সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে নাটকীয়তা শুরু হয়। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে আশরাফ হাকিমি মরক্কোর হয়ে সমতা ফেরান। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পর প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে ইসিদোর আবারও হাইতিকে এগিয়ে দেন। তার এই গোলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বিরতির ঠিক আগে ইসমাইল সাইবারি গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনেন।
দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কো পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। ধারাবাহিক আক্রমণে হাইতির রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা এবং জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৭৫ মিনিটের পর বদলি হিসেবে নামা রাহিমি দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন। শাদি রিয়াদের পাস থেকে গোল করে প্রথমবারের মতো মরক্কোকে এগিয়ে দেন তিনি।
এরপর ম্যাচের শেষ দিকে রাহিমির তৈরি করা সুযোগ থেকে ইয়াসিন গেসিম গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান। তার সহজ সমাপ্তিতে মরক্কো ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং জয় নিশ্চিত করে। অতিরিক্ত সময়ে হাইতির দাকেন্স নাজনের শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক বোনো, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা সেভ হিসেবে আলোচনায় থাকবে।
এই জয়ে মরক্কো নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করলেও গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করতে পারেনি। ফলে শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলতে তাদের যেতে হবে মেক্সিকোর মনতেরেতে, যেখানে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষ দলের মুখোমুখি হবে তারা। তবে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ায় মরক্কো আত্মবিশ্বাসের বড় জোগান পেয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য