![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনই উঠছে না, নতুন পর্যায়ের আলোচনার কথা জানালেন ইসহাক দার
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন পর্যায়ের আলোচনায় প্রবেশ করলেও তেহরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এখনই প্রত্যাহার করা হচ্ছে না।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার পথে এগোতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং পারমাণবিক মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তুতিও প্রকাশ করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।
ইসহাক দার জানান, নতুন পর্যায়ের আলোচনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন-সংক্রান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনটি পৃথক কারিগরি বা টেকনিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম পারমাণবিক বিষয়, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং লেবানন-সংক্রান্ত আলোচনায় কাজ করবে।
৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির আশা
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনার পরবর্তী ধাপ শেষ করার জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
গোপন কোনো সমঝোতা হয়েছে—এমন গুঞ্জন নাকচ করে ইসহাক দার বলেন, ইসলামাবাদ চুক্তিতে যেসব বিষয়ে সম্মতি হয়েছে, সবকিছুই লিখিতভাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। পাকিস্তান এখানে কেবল মধ্যস্থতাকারী ও সহযোগী ভূমিকা পালন করেছে এবং এর পেছনে তাদের কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ ছিল না।
লেবানন পরিস্থিতি জটিল করেছিল আলোচনা
ইসহাক দারের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরাইলি হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া প্রায় ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে পাকিস্তানসহ কয়েকটি অংশীদার দেশের উদ্যোগে দুই পক্ষকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকটি অত্যন্ত সতর্কতা ও ভারসাম্য বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে এর উদ্দেশ্য বা কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের কোনো কারণ নেই।
উভয় পক্ষ গ্রহণ করেছে সমঝোতা স্মারক
ইসহাক দার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই সমঝোতা স্মারক গ্রহণ করেছে এবং বর্তমানে সেই নথির ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ আলোচনার পথরেখা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
তার মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত কাঠামো, যার মাধ্যমে প্রাথমিক সমঝোতাকে পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
৪৭ বছরের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা
ইসহাক দারের দাবি, পাকিস্তানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সরাসরি সংলাপ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ইসলামাবাদে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছয় দফায় মোট ২১ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৪৭ বছরের মধ্যে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম সরাসরি আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইরানের পক্ষে পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইসহাক দার, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মধ্যস্থতাকারী ও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
‘আর-৪ ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্ক মিলে ‘আর-৪ ফোরাম’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে বলেও জানান ইসহাক দার।
তার ভাষায়, এটি কোনো রাজনৈতিক জোট নয়; বরং প্রায় ৫০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সহযোগিতামূলক আঞ্চলিক মঞ্চ। এই ফোরাম লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং চীন পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য