![]()
ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পদও ছাড়ছেন তিনি। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।
পদত্যাগের ভাষণে স্টারমার বলেন, ছয় বছর আগে তিনি এমন এক লেবার পার্টির দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যা রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিকভাবে সংকটে ছিল। দলের সংস্কার, জনআস্থা পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় নির্বাচনে জয় এনে দেওয়াকে তিনি নিজের অন্যতম সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে ব্রিটেনের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে, বিনিয়োগ বেড়েছে, স্বাস্থ্যসেবায় অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমেছে এবং শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং শিশু দারিদ্র্য হ্রাসেও সরকারের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
স্টারমার বলেন, বিশ্বের দরবারে ব্রিটেনের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন।
তবে আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আর সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি নন— সংসদীয় দলের এমন মূল্যায়নকে সম্মান জানিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন স্টারমার। তাঁর আশা, সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বিদায়ী বক্তব্যে তিনি দলীয় সহকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পরিবারকে আরও বেশি সময় দেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার বিশ্বাস থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাঁর উত্তরসূরিকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন।
পাঠকের মন্তব্য