![]()
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকে ঘিরে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক ইতোমধ্যে অবকাঠামো ও শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নসহ বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার এবং বৃহত্তম আমদানিকারক দেশগুলোর একটি।
মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার রাতে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরে তিনি চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো, চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন এবং বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পরে বেইজিংয়ে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, এক্সিম ব্যাংক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া ২৫ জুন বিডা আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ অংশ নিয়ে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে। তবে আমদানিনির্ভর বাণিজ্য কাঠামোর কারণে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাড়িয়ে এ ঘাটতি কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। তিনি প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্প সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে চীনা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক ইউসেফ শু বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগে চীনা ব্যবসায়ীদের আগ্রহ রয়েছে। তাঁর মতে, এই সফর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জিত হলে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
পাঠকের মন্তব্য