![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপতৎপরতা ও নাশকতার আশঙ্কায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও ভালো অবস্থানে রয়েছে। সরকার সবসময় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, “সভা-সমাবেশ করা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তাহলে তা প্রতিহত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে কিছু এলাকায় সম্ভাব্য অপতৎপরতার আশঙ্কা পাওয়া গেছে। সে কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সেনা মোতায়েনের জন্য একটি চিঠি জারি করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর বেআইনি মিছিল, শোডাউন এবং অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এবং জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনা মোতায়েন থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
পাঠকের মন্তব্য